Back

ⓘ পর্সা জাতীয় উদ্যান




পর্সা জাতীয় উদ্যান
                                     

ⓘ পর্সা জাতীয় উদ্যান

পর্সা জাতীয় উদ্যান হলো দক্ষিণ-মধ্য নেপালের অভ্যন্তর তরাই নিম্নভূমিতে একটি সুরক্ষিত অঞ্চল। এই উদ্যানটি পর্সা, মকবানপুর এবং বারা জেলার অন্তর্ভুক্ত। জাতীয় উদ্যাটির আয়তন প্রায় ৬২৭.৩৯ কিমি ২ । এটি শিবালিক পাহাড়ের ঢাল পর্যন্ত বিদ্যমান। সেখানে এর উচ্চতা ৪৩৫ মি থেকে প্রায় ৯৫০ মি পর্যন্ত। এই অঞ্চলকে ১৯৪৮ সালে একটি বন্যজীবন সংরক্ষণাগার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ২০০৫ সালে ঘোষিত বাফারজোনে ২৮৫.৩ কিমি ২ অন্তর্ভুক্ত। ২০১৫ সালে অভয়ারণ্যের সীমানা ১২৮ কিমি ২ পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে এটি জাতীয় উদ্যানের স্বীকৃতি পায়।

                                     

1. বিস্তারিত

পর্সা জাতীয় উদ্যানের উত্তরে রাপ্তি নদী এবং শিবালিক পর্বতশ্রেণী মানব বসতির জন্য প্রাকৃতিক সীমানা গঠন করে। পূর্ব দিকে এটি হেটৌডা-বীরগঞ্জ মহাসড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত। দক্ষিণে একটি জংলি রাস্তা সীমানা নির্ধারণ করে। পশ্চিমে সংলগ্ন চিতবন জাতীয় উদ্যান। ভারতীয় বাঘ সংরক্ষিত অঞ্চল বাল্মীকি জাতীয় উদ্যানের সাথে মিলিতভাবে ২,০৭৫ কিমি ২ ৮০১ মা ২। এর সুসংহত সুরক্ষিত অঞ্চলটি বাঘ সংরক্ষণ ইউনিট টিসিইউ চিত্রওয়ান-পার্সা-ভালমিকি প্রতিনিধিত্ব করে, যা ৩,৫৪৯ কিমি ২ ১,৩৭০ মা ২ পলল ঘাসের জমির ব্লক জুড়ে এবং উষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্র পাতাঝরা বন।

অভয়াশ্রমে রূপান্তরিত হওয়ার আগে অঞ্চলটি শাসক শ্রেণির শিকারের জায়গা হিসাবে ব্যবহৃত হত।

                                     

2. উদ্ভিদবৈচিত্র‍্য

উদ্যানের বেশিরভাগ উদ্ভিদই গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপগ্রীষ্মমন্ডলীয় বন প্রজাতির উদ্ভিদ। উদ্যানে শতকরা নব্বই ভাগ শাল গাছের উপস্থিতি রয়েছে। শিবালিক পর্বতশ্রেণি অঞ্চলে চির পাইন গাছ জন্মে। এছাড়াও যেসব উদ্ভিদের আধিক্য দেখা যায় তা হল-

  • শিশু গাছ
  • সিল্ক তুলা
  • খাইর গাছ

চুরিয়া পাহাড়ের দক্ষিণ দিকে সাবাই ঘাস ভাল জন্মায়।

আনুমানিক ৯১৯ প্রজাতির উদ্ভিদ শনাক্ত করা হয়েছে যার মধ্যে ২৯৮ ভাস্কুলার উদ্ভিদ, ২৩৪ ডিকট, ৫৮ মনোকোট, পাঁচটি টেরিডোফাইট এবং একটি জিমনোস্পার্ম রয়েছে।

                                     

3. প্রাণিবৈচিত্র্য

২০০৮ সালের মে মাসে সরকার কর্তৃক পরিচালিত একটি আদমশুমারিতে ৩৭টি গৌরের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ২০১৬ সালে পার্ক কর্তৃপক্ষ আরেকটি জরিপ চালায়। এই জরিপে দেখা যায় গৌরের সংখ্যা বেড়ে ১০৫-এ দাড়িয়েছে। ২০০৮ সালে পরিচালিত বিস্তৃত ক্যামেরা-ট্র্যাপিংয়ের সাহায্য নিয়ে এক সমীক্ষায় চারটি প্রাপ্তবয়স্ক রয়েল বেঙ্গল টাইগাএর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তিন মাস ধরে পরিচালিত একটি ক্যামেরা-ট্রাপিং জরিপে ১৯টি বাঘের উপস্থিতি সমন্ধে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এটি তিন বছরে বাঘের সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।