Back

ⓘ ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠান বোম্বে




                                     

ⓘ ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠান বোম্বে

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বোম্বাই বা ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠান বোম্বে একটি পাবলিক প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান, যেটি ভারতের মুম্বাই শহরের পাওয়াই এলাকাতে অবস্থিত। এটি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি ব্যবস্থার দ্বিতীয় প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান ।

আইআইটি মুম্বাই প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৫৮ সালে। ১৯৬১ সালে জাতীয় সংসদ কর্তৃক আইআইটিকে জাতীয় গুরুত্বের সংস্থান হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ভারত সরকারের একটি উচ্চ-ক্ষমতা কমিটি দেশের প্রযুক্তিগত শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৬৪ সালে চারটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছিল। মুম্বাই ইনস্টিটিউটের জন্য পরিকল্পনা ১৯৫৭ সালে শুরু হয় এবং ১৯৫৮ সালে ১০০ ছাত্রের প্রথম ব্যাচ প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। পাওয়াইয়ে প্রতিষ্ঠাপর থেকে, প্রতিষ্ঠানটি বড় হয়ে ৫৮৪ টির ও বেশি প্রধান ভবন অন্তর্ভুক্ত করে আয়তনে দাঁড়িয়েছে ২,২৬,৬২ বর্গ ফুট ৫৫০ একর বা ২.২২ বর্গ কিলোমিটার।

আইআইটি বোম্বেতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদানের জন্য একটি ব্যাপক স্নাতক ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে আইআইটি বোম্বেতে মোট ১৪ টি শিক্ষা বিভাগ, ছয়টি কেন্দ্র, একটি বিদ্যালয় এবং তিনটি আন্তঃবিভাগ রয়েছে। গত ৫৩ বছরে, প্রায় ৩৯ হাজার প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী এই প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক হয়ে বেরিয়েছেন। এখানে শারীরিক বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষা ছাড়াও মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের মধ্যে অর্থশাস্ত্র, ইংরেজি, দর্শনশাস্ত্র, মনোবিজ্ঞান এবং সমাজবিদ্যা এবং ম্যানেজমেন্ট শিক্ষাও পড়ানো হয়। বছরেপর বছর ধরে, প্রতিষ্ঠানটি অবিরাম শিক্ষা এবং দূরশিক্ষা কর্মসূচি বিভাগে বিশেষ স্বল্পমেয়াদী কোর্স উদ্ভাবন করে নিজের যথাযোগ্য একটি স্থান তৈরি করেছে।

                                     

1. বিদ্যায়তন

আইআইটি বোম্বে ক্যাম্পাস বা বিদ্যায়তন বিহার হ্রদ ও পাওয়াই হ্রদের মধ্যবর্তী পূর্ব মুম্বাইয়ের পাওয়াইতে অবস্থিত। ক্যাম্পাসটি অনেকগুলি বাড়ি নিয়ে তৈরী। শিক্ষা সংক্রান্ত এলাকাটি মূলতঃ প্রধান ভবন, বিভিন্ন বিভাগীয় সংযোজন এবং অডিটোরিয়াম নিয়ে গঠিত। সমস্ত সংযোজিত বিভাগগুলি ইনফাইনাইট করিডোর নামের একটি দরদালান দ্বারা সংযুক্ত। বেশিরভাগ ছাত্রাবাস সমাবর্তন কক্ষেপর অবস্থিত। এখানে মোট ১৬ টি ছাত্রাবাস আছে, যার মধ্যে দুটি ছাত্রাবাস ছাত্রাবাস ১০ এবং ১১ এবং নবনির্মিত ছাত্রাবাস ছাত্রাবাস ১৫ এর একটি অংশ ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত।

সঞ্জয় গান্ধী ন্যাশনাল পার্কের কাছাকাছি থাকার কারণে, ক্যাম্পাসের মধ্যে যথেষ্ট সবুজ আবরণ রয়েছে এবং শহরটির বাকি অংশের দূষণ থেকে বিদ্যায়তনটি মুক্ত। ক্যাম্পাসটি জাতীয় উদ্যানের কাছেই অবস্থিত হওয়া পাওয়াই হ্রদের তীরে মাঝে মাঝেই প্যান্থার, লেপারড এবং ঘড়িয়াল কুমিরের গাবিয়ালিজ গ্যাংটিক্স দেখা মেলে। কখনও তারা শিকার কে তাড়া করে ক্যাম্পাসে চলে আসে।

                                     

2. বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্ব

গত সাত বছরে উত্‌কর্ষের বিচারে নিজেদের আরও উন্নত করে ৮১ ধাপ পেরিয়ে এই মুহূর্তে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ২০০ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান । দেশের মধ্যেও শ্রেষ্ঠত্বের নিরিখে আইআইটি দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স-কে পিছনে ফেলে দিয়েছে ।