Back

ⓘ গরিফা উচ্চ বিদ্যালয়




গরিফা উচ্চ বিদ্যালয়
                                     

ⓘ গরিফা উচ্চ বিদ্যালয়

গরিফা উচ্চ বিদ্যালয় নৈহাটি তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যে অবস্থিত একটি উল্লেখযোগ্য প্রাচীন উচ্চবিদ্যালয়৷ এই বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৮৪৫ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের স্বাধীনতা লাভের ১০২ বছর পূর্বে৷ এই বিদ্যালয়ে শিশুবিভাগে প্রথম শ্রেণী থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়নের সুযোগ আছে।

                                     

1. বিদ্যালয় সূচনার ইতিহাস

শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা শুরুর পূর্বেকার যুগে গরিফা এম.ই.স্কুলের সূচনা৷ এর সূচনালগ্নের ইতিহাস অনধিগম্য কারণ বেশির ভাগ প্রাচীন নথিপত্র অাজ অার খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ তবে মনে করা হয় যে, ঐ সময় এই অঞ্চলের সেন, রায়দের মত বিদ্যোৎসাহী ও কিছু পরিমানে সংস্কার মুক্ত পরিবারেরযে সকল সন্তান কেউ ঘটনাচক্রে কলকাতায় ইংরাজী শিক্ষা গ্রহণ করেন তারাই পরবর্তীকালে গ্রামে ফিরে এসে জীবনের নানা ক্ষেত্রে ইংরেজি জানার ব্যবহারিক প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব উপলব্ধি করেন এবং স্থানীয় ছেলেদের ইংরেজি শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সম্ভবত সেই উদ্যোগেরই বাস্তব ফসল গরিফা এম.ই.স্কুল যা বর্তমানে গরিফা উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচিত৷

                                     

2. বিদ্যালয় স্থাপনের ইতিহাস

১৮৪৫ সালে গরিফা এম.ই.স্কুল টির পত্তন হয়েছিল গৌরীভা যা বর্তমানে গরিফা গ্রামের এক বিদ্যোৎসাহী মানুষ দ্বারকানাথ সেনের প্রচেষ্টায়৷ এ ব্যাপারে তিনিই ছিলেন প্রধান উদ্যোক্তা৷ সেন পাড়ায় তার বাড়ীর একতলার দুটি ঘর ও সংলগ্ন বারান্দায় তিনি কয়েক জন উৎসাহী গ্রামবাসীদের নিয়ে স্কুল প্রতিষ্টা করেন৷ যতদূর জানা গেছে তখন গ্রামের শিক্ষিত যুবকরাই ছাত্রদের শিক্ষা দেওয়ার কাজ শুরু করেছিলেন৷ প্রাথমিক স্থরে ইংরেজি পড়ানো হত৷ তার সঙ্গে বাংলা ও অন্যান্য বিষয়৷ উনিশ শতকের ছয় দশক পর্যন্ত বিদ্যালয়টি এভাবেই শিক্ষা বিস্তারের কাজ করে আসছিল যদিও তার তেমন স্থায়িত্ব লাভ হয়নি৷ উনিশ শতকের ছয় দশক পর্যন্ত বিদ্যালয়টি এভাবে নিরবে শিক্ষা বিস্তারের কাজ করে আসছিল যদিও তখনও তার তেমন স্থায়িত্ব লাভ হয়নি৷ নানা বাধা বিঘ্নের মধ্যেও দ্বারকানাথ সেনের বাসভবন থেকে প্রথমে নীলকন্ঠ পুরহিতের বাড়ী এবং পড়ে সেখান থেকে অানন্দ মজুমদারের গৃহে স্থানান্তরিত হয়ে স্কুল চলেছিল৷ শেষে এৈলোক্য স্যাকরা নামে এক ব্যক্তির বাড়ীর দক্ষিণের একটি একতলা ঘরে ও তৎসংলগ্ন চালাঘরে স্কুলটি বেশ কিছু দিন চলে৷ এই ভাবে চলতে চলতে সম্ভবত ১৮৬০-৭০ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিদ্যালয়ের নিজেস্ব ভবন নির্মত হয়৷ এ সময় সরকারী অর্থ সাহায্য পাওয়া যায়৷ গৌরীপুর চটকল ১৮৬২ সালে প্রতিষ্ঠিতও অন্যান্য স্থানীয় ইউরোপীয় মিল মালিকদের আর্থিক সাহায্যে গ্রামের জমিদার নন্দলাল সেনের প্রদত্ত জমির উপর Ferry Fund Road বর্তমানে R.B.C Road -এর পশ্চিম ধারেগরিফা এম.ই.স্কুলর নিজেস্ব একতলা পাকা বাড়ী নির্মিত হয়৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সমগ্র বঙ্গের অন্যান্য বিদ্যালয়ের মতো গরিফা এম.ই স্কুল বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে এবং এটি সাময়িক ভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, কারণ বিদ্যালয় ভবন যুদ্ধের প্রয়োজনে ARP অধিকৃত হয়েছিল৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে সেদিন এগিয়ে এসেছিল তৎকালীন গ্রামের কল্যাণ কারিনী সমাজ সেবিকা নগেন্দ্র বালা রায় ৷ তার চেষ্টায় ঐ সঙ্কটময় এম.ই স্কুলটি সেন পাড়ায়তার পিতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বন্ধু স্থানীয় সাবজজ কুমার সেনের পৈতৃক গৃহে স্থানান্তরিত হয়৷ যুদ্ধের সময় এই বাড়ীতেই বিদ্যালয় স্থানান্তরিত হয় এবং যুদ্ধ শেষে মিলিটারি দখল উঠে গেলে বিদ্যালয় অাবার নিজ ভবনে স্থিত হয়৷ এ ভাবেই নদীর স্রোতধারার মতো বয়ে চলতে থাকে বিদ্যালয়ের স্থাপনের ইতিহাস৷

                                     

3. স্বাধীনতার পরবর্তী সময়

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে অনেক অান্দোলন ও রক্ত ক্ষয়ী যুদ্ধেপর অবষেশে ভারত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে এর সাথে সাথেই গরিফা উচ্চ বিদ্যালয়ও নতুন ভাবে এক পরিপূর্ন রূপ ধারণ করেছিল৷ প্রথমে,১৯৪৮ সালে গরিফা Middle EnglishME দশ ক্লাসের Higher EnglishHE স্কুল -এ উন্নীত হওয়ার অনুমোদন পায় এবং ১৯৪৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় -এর অন্তভূক্ত বিদ্যালয় রূপে পরিগণিত হয়৷ এই প্রচেষ্টা সে সময় যে সকল উৎসাহী গ্রামবাসীর দ্বারা সফল হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন কাশীপতি মজুমদার, কবি বিজয়কৃষ্ঞ ঘোষ, প্রধান শিক্ষক বলাইচাঁদ মল্লিক ও অনাদিনাথ মিত্র এদের ঐকান্তিক চেষ্টায় নানা উপায় অর্থ সংগ্রহ করে একতলা বিদ্যাভবনের উপর দ্বিতল নির্মিত হয়৷ ১৯৪৮ সালের পূর্ব পর্যন্ত বিদ্যালয়টি ছিল Middle English স্কুল, তার পরবর্তী কালে এর নাম পরিবর্তন করা হয় গরিফা উচ্চ বিদ্যালয়। সেই সময় থেকে বিদ্যালয়টি প্রাথমিক স্তর থেকেই ছাত্রদের ইংরাজী শিক্ষা ও সমসাময়িক সিলেবাস অনুযায়ী অন্যান্য পাঠ্য বিষয়ে শিক্ষিত করে উচ্চতর শিক্ষার জন্য নির্ধারিত বিদ্যালয় গুলিতে ভর্তি হওয়ার উপযুক্ত করার দায়িত্ব এই বিদ্যালয়টি কৃতিত্বের সঙ্গে পালন করে এসেছে৷ সে সময় বিদ্যালয়ের ছাত্ররা ৪ টাকা করে জলপানি পেত এবং তখন একই স্কুলে সকালে ক্লাস চলতো মেয়েদের এবং ১১ টাপর থেকে শুরু হত ছেলেদের ক্লাস৷



                                     

4. শিক্ষা সুবিধা সমূহ

দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থসহ একটি গ্রন্থাগার,আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ একটি বিজ্ঞানাগার,কম্পিউটার ল্যাব,জিওগ্রাফি ল্যাব,খেলার মাঠ সহ খেলার সরঞ্জাম রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমিক কার্য্যক্রম যেমন বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা,রবীন্দ্র জয়ন্তি,মাতৃভাষা দিবস,হিরোসিমা ও নাগাসাকি দিবস,শিক্ষক দিবস,বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।